শেয়ার মার্কেটে গুজব ও সাইবার ক্রাইম

কম্পিউটার যেমন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। পুঁজিবাজারও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এই ভাইরাসের নাম ‘গুজব’ । এটি আপনার পুঁজি শেষ করে দিতে পারে। আজকের টপিকে আমি আপনাদের গুজব ও সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে কিছু কথা বলব।

শেয়ার মার্কেটে গুজব

আজকাল আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে ফেসবুক সহ বিভিন্ন ওয়েব সাইট বা ব্লগ খুলে বিভিন্নজন বা প্রতিষ্ঠান অহরহ বিশেষ বিশেষ কোম্পানীর পক্ষে নানা তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে। বিনিয়ােগকারীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এটা দেশের ভেতরে এবং বাইরে। দুই দিক থেকেই হচ্ছে। আমাদের দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইন অনুযায়ী এটা অপরাধ।

ইতিমধ্যে এ ধরনের বিভিন্ন ওয়েব সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ধরপাকড় হয়েছে। কেবল সাইবার ক্রাইম বন্ধ করলেই কি গুজব থেমে গেলাে? মনে রাখবেন, গুজব আর খবর এক জিনিস নয়। পুঁজি বাজারে টিকে থাকতে হলে এর পার্থক্য আপনাকে বুঝতেই হবে। যেহেতু এটা পুঁজির বাজার এখানে গুজব থাকবেই। টাকা রােজগারের জন্যে মানুষ কত কিছুই তাে করে। প্রতারনা, ছলনা, বাটপারী আরাে কত কি! বিশেষজ্ঞ, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে সবাই এই গুজবের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘােষনা করেছেন যেন। গুজবে কান দেবেন না’ গুজবে কান দেবেন না বলে যতই জিগির তুলুন না কেন, গুজব কিন্তু তার ভােল পাল্টে নতুন মােড়কে হাজির হয়ে যায়। এটাই স্বাভাবিক ।

অন্যদের ফাঁকি দিয়ে টাকা রােজগার করতে কে না চায়? গুজব ছাড়া শেয়ার বাজারের ধারনা একটা অলীক কল্পনা মাত্র। সুপ্রিয় পাঠক বন্ধু, আমি আপনাকে এর বিপরীত পরামর্শ দেবাে। গুজবে কান দিন। জ্বি না ভুল বলছি না। গুজবে কান দিন। তাতে আপনার দুটো লাভ হবে,

১. অন্যেরা এই গুজবে কতটুকু দৌড়াচ্ছে এবং এতে বাজারে আপনার গৃহীত সিদ্ধান্তের অনুকুল বা প্রতিকুল কোন প্রভাব পড়ছে কিনা তা বুঝতে পারবেন।

২. গুজবের সত্য মিথ্যা আপনি। নালাইসিস করে সহজেই বের করতে পারবেন । গুজবে বিশ্বাসকারীরা কিন্তু এটা পারছেন না। তারা ফাঁদে পা দিলেও আপনাকে ফেলতে পারবে না। আপনি আপনার নিয়মেই হাঁটতে পারবেন। কেননা ইতিমধ্যেই আপনি একজন মােটামুটি দক্ষ ব্যবসায়ী বা বিনিয়ােগকারী হয়ে উঠেছেন। আপনি পুরােপুরি রােবােটিক । গুজব আর খবরের পার্থক্য আপনি এনালাইসিস করে বের করতে শিখেছেন। আর শিখেছেন ফিল্টার করে সত্য মিথ্যা আলাদা করার তত্ত্ব।

অতএব, ক্ষতিকর গুজবের বিপরীতে হেঁটে আপনি লাভ হাতিয়ে নিতে পারবেন। এতে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও আপনার গুনাহ হবার কি আছে?

সাইবার ক্রাইম

সাইবার ক্রাইমের ধরনও একেক দেশে একেক রকম। ইন্টারনেটে যে কোন সাইটে ঢুকলেই দেখবেন-বাই সিগন্যাল আর সেল সিগন্যালের হরেক রকম বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। বুঝতেই পারছেন, এসব বিষয়কে বিদেশে ক্রাইম হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। বােরকা না পড়লে এক দেশে অপরাধ বিবেচিত হলেও, অন্য দেশে ঠিক উল্টো।

কাজেই কোনটা গুজব কোনটা অপরাধ তার কোন সার্বজনীন মানদন্ড নেই। তবে আপনি সব ধরনের এনালাইসিস যখন আয়ত্ব করে ফেলবেন তখন কোনটা গুজব তা ঠিকই ধরে ফেলতে পারবেন । গুজব থেকে ফায়দা তুলতে হলে দরকার বিভিন্ন কোম্পানীর ক্রয় বিক্রয় সূচীর বা কোম্পানীর কার্যাবলীর দিকে গভীরভাবে নজর রাখা। কোন কোম্পানীর মুনাফার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটবে কিনা, কোন গুজবের সৃষ্টি হবে কিনা তা আগে থেকেই আন্দাজ করা যায়। কিছু কিছু গুজবের সামান্য ভিত্তি থাকতে পারে। তবে এগুলাে পুরােপুরি নিউজ নয় । শর্টটার্ম বিজনেস-এর জন্যে এসব টেকনিক কাজে লাগাতে পারেন।

সারাংশ

তাহলে উপরের দুইটি ব্যাখ্যা থেকে জানতে পারলাম শেয়ার ব্যবসার গুজব যেমন কিছু শেয়ার হোল্ডারদের ক্ষতি করে ঠিক কিছু হোল্ডারদের লাভবানও করে তুলে। সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে সতর্কহোন বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনে পা দিবেন না, এতে আপনারই পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.