শেয়ার মার্কেটে যেভাবে গ্যাম্বলিং হতে পারে

‘গ্যাম্বলার’ শব্দটি শেয়ার বাজারে খুব চালু একটা শব্দ। এদের কথা শুনলে কেউ পুলকিত বােধ করেন, কেউ আতঙ্কিত হন। আবার কেউ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চৌদ্দ গােষ্ঠী উদ্ধার করেন । গ্যাম্বলাররা বিশাল অংকের অর্থ কোন একটা শেয়ারে বিনিয়ােগ করে ঐ শেয়ারের দাম বাড়িয়ে কৌশলে লাভ নিয়ে বেরিয়ে যান।

যদিও আইনের দৃষ্টিতে এটাকে আপনি কোনভাবেই গ্যাম্বলিং বলতে পারেন না। বড়জোর এটা একটা কৌশল মাত্র। অর্থ রােজগারের জন্যে কৌশল। প্রয়ােগ কোন অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। শেয়ার বাজারে মােটা অংকের অর্থ। বিনিয়ােগ, কৌশল প্রয়ােগ কোনভাবেই গ্যাম্বলিং-এর আওতায় পড়ে না। এদের ‘গ্যাম্বলার’ না বলে বরং স্মার্ট মানি কিম্বা বড়জোর ম্যানিপুলেটর বলাই বেশ সমীচিন। কোন আইনই কাউকে শেয়ারবাজারে মােটা অংকের বিনিয়ােগে নিষেধ করতে পারে না। তারপরেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সার্ভিলেন্স টীম যেকোন অস্বাভাবিক লেনদেনে কড়া নজর রাখছেন এবং নানা বিধি নিষেধ আরােপ করে চলেছেন। তবে নিচের কাজগুলােকে আমরা অবশ্যই গ্যাম্বলিং বলে গন্য করবাে। তাহলাে-তারা যদি কোন একটা বিশেষ কোম্পানীর পক্ষে জন্যে প্রচারনা চালায়, কোন বিশেষ শেয়ার কেনার জন্য বিনিইয়োগকারীকে প্রলুব্দ করে, ভুল তথ্য বাজারে ছড়ায়, পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা রিপোর্ট করিয়ে শেয়ার প্রভাবিত করে-তাহলে এটা অবশ্যই গ্যাম্বলিং। আমাদের দেশের শেয়ারবাজারে গ্যাম্বলিং বা গেম খেলার যথেষ্ট সুযােগ আছে। শেয়ারের স্বল্পতা এসইসির গত জটিলতা, লােকবলের অভাব, টেকনিক্যাল ও আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব ইত্যকার নানান কারনে সুযােগ রয়েছে। যে সব কোম্পানীর কম সংখ্যক শেয়ার বাজারে রয়েছে সিন্ডিকেট করে তা প্রায়শই গ্যাম্বলিং করা হয়। তারাই কেনে তারাই বেচে, মাঝখানে আপনাকে প্রলুদ্ধ করে ঢুকাতে পারলেই হলাে। আর এই গ্যাম্বলার বা ম্যানিপুলেটর কিম্বা স্মার্ট মানি যাই বলুন না কেন, এদের দ্বারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে কেবল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তা কিন্তু নয়। এরা বাজারে থাকার এনে আপনি যথেষ্ট লাভবানও হতে পারেন। এরা না থাকলে মার্কেট জমবে কিভাবে?

এদের গেইমিংকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে এদের কৌশল ধরার চেষ্টা করুন। তাদের সাথে শেয়ারে ঢুকে তাদের আগেই বেরিয়ে আসুন। তবে এটা ঠিক বেশীরভাগ ব্যবসায়ী তাদের কৌশলে (মতান্তরে ফাঁদে) পা দিয়ে পুঁজি খুইয়ে বসেন। এদেরকে ধরার দায়িত্ব আপনার নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার। আপনার কাজ তাদের কৌশল বুঝে লাভবান হওয়া । আমি আগেই বলেছি, বড় অংকের বিনিয়ােগ বা নিজস্ব কৌশল প্রয়ােগ অপরাধ নয় । নিজস্ব কৌশল বলতে তারা কোন বিশেষ শেয়ার দাম বাড়াবার মানসে বেশী দামে কিনতে পারে। এতে বিনিয়ােগকারীরা ধরে নিতে পারেন যে শেয়ারটির দাম বাড়ছে, অধিকাংশ বিনিয়ােগকারী সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করে ফেলেন এবং অনেক বেশী দামে শেয়ারটি কিনেন। ঐ ফাঁকে শেয়ারটি বিক্রী করে ‘স্মাট মানির মালিক’ বেরিয়ে যান বিপুল অংকের লাভ নিয়ে। বাকিরা ‘ধরা’ খেয়ে শিক্ষা লাভ করেন। গ্যাম্বলাররা অপেক্ষাকৃত কম শেয়ারধারী কোম্পানীর শেয়ার বেছে নেন। গুজবের কারনে মানুষের মনে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে এমন শেয়ার এবং দূর্বল ফান্ডামেন্টালের শেয়ারও তারা বেছে নেন।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন, এই স্মার্ট মানি শেয়ার বাজারে না এলে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হবে কিভাবে? আর আপনারও এতাে শিক্ষা লাভ কিংবা সচেতন হওয়ার প্রয়ােজন কি? শেয়ার বাজারে যেহেতু অর্থের খেলা, এখানে চালাক, প্রতারক ও ধূর্তরা। থাকবেই। শেয়ারের মূল্য বাড়ানাে কমানাে নিয়ে নানা কারসাজি হবে। পদে পদে ফাঁদ পাতা থাকবে। সিন্ডিকেট করে কোন কোন শেয়ার নিয়ে গ্যাম্বলিং হবে। আপনি সেই ফাঁদে পা দিয়ে ফেললে পুজি খুইয়ে ঘরে ফিরতে দেরি হবে না । আগুনকে ভয় পেলে আগুন নিয়ে খেলবেন কেমন করে? আগুনকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করতে শিখুন। গ্যাম্বলারদের ভয় পাবেন না বরং কৌশলে তাদের উচিত শিক্ষা দিন।

সারাংশ

আমাদের দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন ভূমিকা রাখতে চাইছে। বাজারে কারােরই ক্ষতি না হয়। একটি বিষয় আপনি খেয়াল করুন, আপনি লাভ করলে কেউ না কেউ তাে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, আর আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হলে কেউ লাভ করছেন। আপনি যে শেয়ারটি কিনছেন তা কেউ বিক্রী করছেন।  লাভ করা, ক্ষতি হওয়া দুইটা মিলেই তাে শেয়ার বাজার। চালাকি, ধূর্ততা, কৌশল, কুটকৌশল – সবই এখানে থাকবে। পৃথিবীর সব দেশেই আছে। এদের নিয়ন্ত্রন করা তত সহজ কাজ নয়। কেউই তা পারেনি। তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কোন প্রয়ােজন নেই সেটা আমার বিবেচ্য বিষয় নয়। গ্যাম্বলার, ম্যানিপুলেটর বা স্মার্ট মানি এদেরকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিন। চোখ কান খােলা রাখুন, তাদের কৌশল ধবার চেষ্টা করুন। আপনাকে ঠকানাে সহজ হবে না-এটা আমি হলফ করে বলতে পারি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.