Homeশেয়ার বাজারের প্রাথমিক ধারনাশেয়ার ব্যবসায় যা করবেন (What you must 'DO' in Stock Market)

শেয়ার ব্যবসায় যা করবেন (What you must ‘DO’ in Stock Market)

শেয়ার ব্যবসায় প্র্যতেকটি শেয়ারের মূল্য হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। তাই প্র্যতেক শেয়ার হোল্ডারদের কিছু করনীয় কাজ থাকে তাই আজকে আমরা এই প্রতিবেদনে শেয়ার ব্যবসায় যা করবেন তার একটি তালিকা আপনাদের কাছে তুলে ধরতে চাই। আশাকরি এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনি সঠিক ভাবে আপনার শেয়ারের সঠিক সিধান্ত নিতে পারবেন।

শেয়ার ব্যবসায় আপনি কি কি করবেন না

১। শেয়ার কেনার আগে অবশ্যই ফান্ডামেন্টাল ও টেকনিক্যাল এনালাইসিস করুন । ঐ শেয়ারের বাজার পরিস্থিতিও বিবেচনায় আনুন। তারপর বিনিয়ােগ করুন। কেননা এটা বিশ্লেষনধর্মী বিনিয়ােগ ক্ষেত্র। এখানে আন্দাজে বিনিয়ােগের কোন সুযােগ নেই।

২। শেয়ার বাজারে বিনিয়ােগ করার আগে ঐ কোম্পানী সম্পর্কে সমস্ত খোঁজখবর রাখুন। কোম্পানীর ব্যবসায়িক অবস্থা, লাভ ক্ষতির হ্রাস বৃদ্ধির সার্বক্ষণিক খবর রাখুন। কেননা আপনি ঐ কোম্পানীটি কিনতে যাচ্ছেন । নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন এবং চোখ কান খােলা রাখুন। ভুলে যাবেন না, এটা অবশ্যই একটা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার । আপনি এখানে লাভ করতে এসেছেন, পুঁজি খােয়াতে নয় ।

৩। দাম পড়তে শুরু করলে অল্প লােকসানে শেয়ার ছেড়ে দিন। ঐ টাকা অন্য শেয়ারে বিনিয়ােগ করুন।

৪। মার্কেট যখন কারেকশন হয়, ঐ সময়ে কেনার মত কিছু অর্থ হাতে রেখে ব্যবসা করুন।

৫। কোন শেয়ারের দাম যখন বাড়তে থাকে তখন ধরে ছাড়ুন । আর দাম যখন কমতে থাকে তখন ছেড়ে তারপর ধরুন।

৬। সময়ের প্রয়ােজনে কৌশল পাল্টান। সব শেয়ারের ক্ষেত্রে একই কৌশল খাটে না

৭। কোন কোম্পানীর শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে একজন গােয়েন্দার মতাে ঐ কোম্পানীর সব কিছু জেনে নেবার চেষ্টা করুন।

৮। সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে ভুল হতেই পারে। কম ক্ষতিতে দ্রুত ভুল শুধরে নিন।

৯। কোন শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়তে থাকলে বা অস্বাভাবিক কমতে থাকলে কারণ অনুসন্ধান করুন । গেম্বলারদের কারসাজি কিনা বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনি চেষ্টা করলে এই অস্বাভাবিকতার মধ্যেও যথেষ্ট আয় করতে পারেন ।

১০। বেশীর ভাগ মানুষই সমস্যা বা অস্বাভাবিকতার সামনে ভেঙ্গে পড়ে। এটা মানুষের স্বাভাবিক মানসিকতা। এটার বিপরীতে অর্থাৎ এটাকে কাজে লাগিয়ে আয় বাগিয়ে নেবার চেষ্টা করুন।

১১। শেয়ার কেনার আগে ইপিএস, পিই রেশিও, শেয়ার প্রতি সম্পদ এবং এজিএম এর সময় এবং বিগত এক বছরের খতিয়ান দেখে নিন।

১২। শেয়ারবাজারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করা যায় না। তড়িৎ তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

১৩। বাজার যখন আতঙ্কিত তখন শেয়ার কিনতে থাকুন । (Buy when markets are in the grip of panic)

১৪। শক্ত মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার কিনুন, যেটি অবমূল্যায়িত অবস্থায় আছে। (Only buy fundamentally strong stocks, which are undervalued)

প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়ােগ করুন

১৫। প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়ােগ করুন। (Invest a fixed amount each month)

১৬। শেয়ার কেনা বেচাকে একটা গেইম হিসাবে নিন এবং ভাল স্কোর করতে হয় বেশ মজা পাবেন।

১৭। প্রত্যেক ব্যবসায়ীরই নিজস্ব কিছু নিয়ম বা ফরমুলা থাকে। আপনার নিজস্ব নিয়মে অটল থাকুন। অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। আবেগ তাড়িত হবেন না কোনভাবেই অন্যকে অনুসরন করবেন না।

১৮। মার্কেট যখন খুব চাঙ্গা হয়ে উঠবে, তখন হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে দিয়ে মার্কেট পতনের জন্যে অপেক্ষায় থাকুন। মনে রাখবেন, এই চাঙ্গা সময়ে দর পতনের বিষয়টি বেশীরভাগ লােকই চিন্তা করে না। এটা মানুষের স্বাভাবিক মানসিকতা।

১৯। সব সময় মার্কেট ট্রেন্ড খেয়াল করুন। কেননা নিত্য ব্যবসায়ীদের জন্যে এ ট্রেন্ডই লাভক্ষতির কারন। এ ট্রেন্ড-এর ব্যাপারেও আপনাকে সাবধান হতে হবে। দেখা গেলাে কোন একটা শেয়ারের দাম বাড়ছে, আপনি না বুঝে হােক আর গুজবে হােক কিনে ফেললেন, দুদিন বা তিন দিন পর্যন্ত এর দাম বাড়তে থাকলাে। কিন্তু যখনই আপনার শেয়ারটি ম্যাচিউড় হলাে, সেদিন থেকেই দাম পড়া শুরু হলাে। আর এই ফাঁকে দুষ্টরা ঠিকই লাভ করে বেড়িয়ে গেছে। চোখে সর্ষে ফুল দেখা ছাড়া আর কোন উপায় আছে আপনার?

২০। আপনি যদি নিয়মিত শেয়ার ব্যবসায়ী হন, তাহলে প্রতিদিন অন্ততঃ দুই ঘন্টা এর তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষনে ব্যয় করুন। একজন গােয়েন্দার মত কোম্পানীর হাড়ির খবর নেয়ার চেষ্টা করুন।।

২১। কোন কোম্পানীর শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে কোন বাড়ছে সেটা জানার চেষ্টা করুন। অনাকাঙ্খিতভাবে কোন শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি তার লাগাম টেনে ধরার জন্যে ইদানিং নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আপনি ঐ শেয়ার কিনে ফেললে এসইসির সিদ্ধান্তের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন। শেয়ার কেনার সময় এটিও মাথায় রাখুন।

২২। মার্কেট যখন চাঙ্গা হতে শুরু করে তখন থেকেই ধীরে ধীরে (অল্প অল্প অর্থাৎ বিভিন্ন কিস্তিতে) শেয়ার কিনতে থাকুন। মনে রাখবেন, একই সাথে সবগুলাে শেয়ারের দাম বাড়ে না এবং সবগুলাে শেয়ারের দাম একই সাথে কমেও না।

২৩। মার্কেট যখন চাঙ্গা হতে শুরু করে, রেকর্ড ডেট যখনই থাক, কাঙ্খিত মূল্যে পৌঁছালে শেয়ার ছেড়ে দিন। এরপর আবার মার্কেট কারেকশনের জন্যে অপেক্ষা করুন।

২৪। কোম্পানীর ডিভিডেন্ড গ্রহন করবেন কিনা ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে রেকর্ড ডেট-এর আগে দাম বৃদ্ধির চরম পর্যায়ে শেয়ার ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। ধরতে চাইলে রেকর্ড ডেটের পরে ধরুন।

২৫। মার্কেট ট্রেন্ড খেয়াল করুন কেননা কিছু শেয়ারের দাম বাড়ছে আরাে বাড়ার জন্যে, আর কিছু শেয়ারের দাম বাড়ছে আরাে কমার জন্যে।

২৬। শেয়ার বাজারের নেতিবাচক এবং ক্ষতির দিকগুলাে আগে জানুন, যদি শেয়ারবাজার থেকে লাভবান হতে চান।

২৭। পত্র-পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেট থেকে সার্বিক পরিস্থিতির খবর রাখুন। ডিএসসি ও সিএসসির ওয়েবসাইটগুলাে প্রতিদিনই দেখুন। বিশ্লেষন করুন। এখানে প্রতিদিনই নানা নিউজও চলমান থাকে, সেগুলােও পড়ুন। মােট কথা তথ্যের দিক থেকে আপডেট থাকুন। শেয়ার বাজার তথ্য সংক্রান্ত বাজার । যার কাছে যত তথ্য আছে সে তত এগিয়ে থাকবে।

সারাংশ

উপরের ২৭ টি টপিক থেকে আমরা জানতে পারলাম শেয়ার ব্যবসায় আপনাদের কি কি মাথায় রেখে এই ব্যবসা চালনা করতে হবে। মূলত উপরের ব্যাপার গুলো মাথায় রেখে আপনি যদি সঠিক সিধান্ত নিয়ে কাজ করে যান তাহলে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হলেও তা থেকে বেরিয়ে লাভবান হতে বেশি দিন সময় লাগবে না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular