শেয়ারের শ্রেনী বিভাগ, ব্যবসায়ীর রকমফের ও ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা।

শেয়ার ব্যবসায় সকল কোম্পানীর শেয়ারকে মোট ৫ টি ক্যটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্রেতাগণ এই ৫টি শেয়ারের ক্যটাগরি থেকে কোম্পানির লাভ-লোকসান বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেয়ার কেনা-বেচা করে থাকেন।

১. ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার: নিয়মিত বার্ষিক সভা করে এবং ১০% বা তার অধিক লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানী।।

২. “বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার: নিয়মিত বার্ষিক সভা করে কিন্তু ১০% -এর কম লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানী ।

৩. ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার: চলতি বার্ষিক সভা করতে ব্যর্থ এবং লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানী।

৪. ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ার: শেয়ারবাজারে নতুন আসা কোম্পানী ।।

৫. ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার: গ্রীন ফিল্ড কোম্পানী সমূহকে বুঝায়। অর্থাৎ যারা এখনাে উৎপাদন শুরু করেনি।

শেয়ার ব্যবসায়ীর রকমফেরঃ

শেয়ার বাজারে চার ধরনের ব্যবসায়ী আছেন। ১। যারা বুঝেশুনে এনালাইসিস করে দীর্ঘ মেয়াদের জন্যে শেয়ার কিনেন, তারা বিনিয়ােগকারী। এদের সংখ্যা আনুমানিক ৫% মাত্র।

২। যারা জ্ঞানের ভিত্তিতে এনালাইসিস করে স্বল্প মেয়াদী বা প্রতিদিন শেয়ার কেনাবেচা করেন, তারা হলেন ট্রেডার। এদের সংখ্যা আনুমানিক ২০%।

৩। যারা না বুঝে এবং কোন রকম এনালাইসিস ব্যতীত হুজুগে এবং গুজবে আন্দাজে স্বল্প মেয়াদী বা প্রতিদিন শেয়ার কেনা বেচা করে ভাগ্যের উপর এক ধরনের জুয়া খেলেন, তারা জুয়ারী। এদের সংখ্যা আনুমানিক ৭০%। তবে এই জুয়ারী বলতে গ্যাম্বলার বা ম্যানিপুলেটরদের বুঝানাে হচ্ছে না।

৪। প্রকৃত জুয়ারী, যাদের গ্যাম্বলার বা ম্যানিপুলেটর নামে চিনি আমরা, তারা অনেক স্মাট, বুদ্ধিমান, ধূর্ত। এরা সব ধরনের এনালাইসিস করেন, মার্কেটের সব খোঁজখবর রাখেন এবং ব্যবসায়ীদের মনস্তাত্তিক ব্যাপারটাও বুঝেন। প্রচুর ঝুঁকিও নেন। এরা স্বল্প মেয়াদী, দীর্ঘ মেয়াদী এবং ডেইলি ট্রেডিং সবই করেন। এদের সংখ্যা আনুমানিক ৫%।

৫। এরাছাড়াও বাজারে এক ধরনের পাগলাটে ব্যবসায়ী আছেন যারা বাজারের ঠিক উল্টো দিকে চলেন। এদেরকে ‘কন্ট্রারিয়ান’ বলে। এদেরকে পাগলাটে বললাম বটে, এরা বেশ সেয়ানা এবং লাভও করেন। তবে এদের সংখ্যা আমাদের দেশে অতি নগণ্য।

ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা আগেই ঠিক করে ফেলুন

শেয়ার মার্কেটের জবরদস্ত লাভের চটকদার কাহিনী শুনে আপনি বিনিয়ােগে আগ্রহী হয়েছেন, খুবই ভাল। শর্টকাটে ধনী হবার এটাই সহজ পথ। আমিতা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি । কিন্তু শেয়ার বাজারে লাভ যেমন আছে ঝুঁকিও আছে তেমন-এটা আপনার ভালভাবে জানা এবং বুঝা দরকার। ঝুকি বহনের ক্ষমতা একেক জনের একেক রকম। কেউ আছেন যারা তাদের সমস্ত সম্পত্তির ঝুকি নিতে পারেন। কেউ আবার এক টাকা লস করতেও রাজি নয়। এরা সবাই-ই শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে পারবেন। তবে তাদের কৌশল হবে ভিন্ন। শেয়ার বাজারে যে যা-ই বলুন, ওগুলাে স্রেফ নীতি কথা, সত্য হলাে, এ বাজারে আপনার পুঁজির নিরাপত্তা কেউ দিতে পারবেন না । আপনার সিদ্ধান্তই আপনার লাভ-ক্ষতির কারণ।r

সারাংশঃ

তাই যারা শেয়ার ব্যবসা করবেন তাদের অবশ্যই তারা কোন শেয়ার কিনবেন, কোন কোম্পানির পরিস্থিতি কতো ভালো আমাগামীতে কোন ঝুকি আছে কিনা আর থাকলে সেটা আপনি কাটিয়ে উটতে পারবেন কিনা সব মিলিয়ে আপনাকে শেয়ার ব্যবসা করতে হবে। তাই ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা আগে থেকেই আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.