শেয়ারের দাম কতটুকু বাড়বে বা কমবে ?

আজকের প্রতিবেদনে আমরা শেয়ারের দাম কতটুকু কমে বা বাড়ে, বুলিশ বা বিয়ারিশ স্টক লাভ্যংশ ও নগদ লাভ্যংশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। যারা শেয়ার ব্যবসায় আসতে চাইছেন তাদের জন্য এই লিখা গুলো খুবই গুরুত্বপুর্ন।

শেয়ারের দাম উঠানামার সময় একটা সাধারন কৌশল অবলম্বন করে । মল্য বৃদ্ধির সময়ে সে দু’পা এগিয়ে এক পা পিছায়। অর্থাৎ ১০% বাড়লে ৫% কমে। আর দর পতনের সময়ে এক পা এগিয়ে দু পা পিছায়। অর্থাৎ ৫% বাড়লে ১০% কমে ।

শেয়ারের দর সর্বশেষ কতটুকু বাড়বে বা কমবে সে সম্পর্কে টেকনিক্যাল এনালাইসিস কবে দেখা গেছে সর্বশেষ যা বেড়েছে তার ৩৮.২% কমবে, বা ৫০% কমবে অথবা সর্বোচ্চ ৬১.৮% কমবে। আবার যা কমেছে তার ৩৮.২% বাড়বে, বা ৫০% বাড়বে অথবা সর্বোচ্চ ৬১.৮% বাড়বে।

কিভাবে বুঝবেন মার্কেট বুলিশ (উঠতি) নাকি বিয়ারিশ (পড়তি)?

সূচক দেখে আমরা প্রায়শঃ বুলিশ বিয়ারিশ হিসেব করে থাকি। আবার অনেকে ট্রেড ভলিউম দেখে হিসেব করেন। যারা এর কোনটাই বুঝেন না, তারা ট্রেড দেখে বুঝে যান মার্কেট বুলিশ কি বিয়ারিশ। এটা তাদের অভিজ্ঞতার ফসল।

সূচক দেখে মার্কেট বুলিশ কি বিয়ারিশ তা বােঝার কোন জো নেই। এটা বুঝতে হলে পরিসর বা ব্রেডথ দেখতে হবে। যখন বেশীর ভাগ কোম্পানীর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায়, তখন বুলিশ আর এর উল্টো হলে বিয়ারিশ। ডিএসসি বা সিএসসি-এর ওয়েব সাইট দেখে তা বুঝতে পারবেন।।

কোম্পানী প্রদত্ত লভ্যাংশ

স্টক লভ্যাংশ ও নগদ লভ্যাংশের মধ্যে পার্থক্য-02

শেয়ারহােল্ডাররা ঐ কোম্পানীর মালিক হিসাবে কোম্পানীর লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। কোম্পানী নগদ বা স্টক কিম্বা উভয় প্রকারের লভ্যাংশ প্রদান করতে পারেন। লভ্যাংশ প্রদানের ধরন দেখে কোম্পানীর মৌল ভিত্তি তথা বর্তমান অবস্থা আঁচ করা যায়। সে কারনে নিম্নে স্টক লভ্যাংশ ও নগদ লভ্যাংশের মধ্যে পার্থক্য দেখানাে হলাে:

স্টক লভ্যাংশ নগদ লভ্যাংশ
১. নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে যখন শেয়ার দেয়া হয় তখন তাকে স্টক লভ্যাংশ বলে। ১. মুনাফার অংশ যখন নগদ অর্থ প্রদান করা হয় তখন তাকে নগদ লভ্যাংশ বলে।
২. এ লভ্যাংশ দিলে ফার্মে শেয়ার সংখ্যা বাড়ে। ২. নগদ লভ্যাংশ দিলে শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে না
৩. এ দ্বারা কোম্পানির বর্তমান আর্থিক অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় না। ৩. এর দ্বারা কোম্পানির বর্তমান আর্থিক অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়।
৪. প্রাপ্ত আয়ের ওপর মূলধনী কর ধার্য করা হয়।  ৪. প্রাপ্ত আয়ের ওপর সাধারণ আয়কর ধার্য করা হয়।
৫. নগদ অর্থের সংরক্ষণ হয়। ৫. নগদ অর্থ কমে যায়।
৬. নগদ অর্থের স্বল্পতার দরুন স্টক দেয়া হয়। ৬.  নগদ অর্থের প্রাচুর্য থাকলে এটি দেয়।এর দ্বারা কোম্পানীর ভাল আর্থিক অবস্থা বােঝা যায়।
৭. ইকুইটি মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় কিন্তু সঞ্চিত ও উদ্রিত্ত হ্রাস পায়।  ৭. নগদ অর্থ হ্রাস পেলেও মুলধন ঠিক থাকে।

 

সারাংশ

আমারা উপরের লিখা হতে জানতে পারলাম যে শেয়ারের দাম বাড়ার একটি নিয়ম আছে অর্থাৎ ১০ ভাগ কমলে এর বিপরীতে ৫ ভাগ বাড়বে যখন বাড়ার সময় হয়। তাই আমাদের কোম্পানির কিছু এনালাইসিস করে তা আমাদের বিচার করতে হয়। যারা অভিজ্ঞ তারাও অনেক সময় ভুল করে বসেন। তাই নিজের বিচার বুদ্ধিও মাঝে মধ্যে কাজে লাগাবেন শেয়ার বেচা কেনার ক্ষেত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.