যেসব কারনে শেয়ারের দাম কমে ও বাড়ে

অনেক সময় দেখা যায়, কোন একটা শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পর অস্বাভাবিকভাবে দাম পড়ে যাচ্ছে। এটা নানা কারনে হতে পারে। আবার এর ঠিক উল্টো চিত্রও দেখা যায়।  আজকে আমরা বিস্তারিত ভাবে তা নিম্নে আলোচনা করব যে কি কি কারনে মূলত শেয়ারের দাম কমে ও বাড়ে।

যেসব কারনে শেয়ারের দাম কমে

ঐ কোম্পানীর বিপর্যয়ের কারনে এটা হতে পারে। কোম্পানীর উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে, বিকল্প পণ্য বাজারে আসায় এই কোম্পানীর চাহিদা হ্রাস পাওয়া, আধুনিক পণ্য তৈরীর মত আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকা, দূর্বল ব্যবস্থাপনা, কারিগরী জ্ঞানের অভাব, পণ্যের দাম পড়ে যাওয়া, শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যবসায়িক ক্ষতি ইত্যকার নানাবিধ কারনে সেল প্রেসার বেশী হওয়ায় শেয়ারের দর পড়ে যেতে পারে।

আবার কিছু শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে পড়ে, যেমন গুজবের কারনে বা ম্যানিপুলেটরদের কারসাজিতেও কোন কোন শেয়ারের দাম পড়ে যেতে পারে। ঐ সময়ে এইসব ম্যানিপুলেটররা শেয়ার কিনতে শুরু করেন। ডিভিডেন্ড ঘােষনার পর বা রেকর্ড ডেটের পরও শেয়ারের দাম পড়ে। তবে শেয়ারের দাম পড়ার এগুলােই একমাত্র কারন নয়। বিভিন্ন মামলা মােকদ্দমার কারনেও পড়ে। সংক্রান্তে অদ্যবদি ২৩০ টি মামলা উচ্চাদালতে বিচারাধীন আছে ।

পড়তে পারেনঃ শেয়ার মার্কেটে গুজব ও সাইবার ক্রাইম

শেয়ার মত শেয়ারের দাম বাড়তে বাড়তে অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়লে এক সময় তা পড়ে যেতে শুরু করে। একে আমরা মার্কেট কারেকশান বলি। জনসংখ্যা বেড়ে গেলে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব মতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে রকম জনসংখ্যা স্বাভাবিক নিয়মে কমে তেমনি শেয়ার মার্কেটে শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়লে কারেকশান’-এর শিকার হয়।

এছাড়া সরকারী কিছু সিদ্ধান্ত এবং সংবাদের কারনেও শেয়ারের দরে প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি সরকার সকল শেয়ারের ফেস ভ্যালু ১০/-টাকা করার ঘােষনা দেয় ১০০/-টাকা ফেস ভ্যালুর শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। পক্ষান্তরে ১০/-টাকা ফেস ভ্যালুর শেয়ারের দাম হু হু করে কমতে থাকে।

দর পতনের সময় যে কারনে ক্ষুদ্র বিনিয়ােগকারীরা ক্ষেপে যান

ক্ষুদ্র বিনিয়ােগকারীরা কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া। তাদের সমস্ত পুঁজিই শেয়ার বাজারে বিনিয়ােগ করে। ফেলেন। মার্কেট বুলিশ বা তেজী হলে তারা লাভবান হন। আর তেজী মার্কেটে তাদের কাছে হুজুগ, গুজব। সবই চলে। কাজেই লাভের আশায় তারা সব টাকা বিনিয়ােগ করে বসেন।

মার্কেট পতনের সময় তাদের হাতে কোন টাকা থাকে না। তাই কম দামে শেয়ার কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। সঠিক পদ্ধতিতে মানি ম্যানেজমেন্ট না করায় তথা আগে থেকে পরিকল্পনার অভাবেই এমনটা হয়। এ কারনে দর পতনের সময় তারা ক্ষেপে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। ক্রমান্বয়ে দর পড়া শুরু করলে অনেক সময় দেখা গেছে আতঙ্কগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়ােগকারীরা বিক্ষোভ, মিছিল, ভাংচুর-এর মত অপরাধজনক কাজ করতেও পিছপা হন না।

যে কারনে শেয়ারের দাম বাড়ে

শেয়ারের দর বৃদ্ধির মুল কারণ কোম্পানীর অন্তর্নিহিত শক্তি। কোম্পানীর আয় বৃদ্ধি, ব্যবসার প্রসার, নতুন নতুন শাখা খােলা, সুনাম ও জনবল বৃদ্ধি, বিক্রী বৃদ্ধি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, অন্য কোন লাভজনক কোম্পানীর সাথে চুক্তি, পিই রেশিও কম থাকা, কাঁচামালের দামসহ উৎপাদন খরচ কমে যাওয়া, কোম্পানীর অবকাঠামােগত সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়া, ব্যাংক ঋণ বা ডিবেঞ্চারের ভার কমে যাওয়া, কোম্পানীর ঋণের সুদের হার কমে যাওয়া, কাঁচামালের প্রাপ্তি সহজ হওয়া, উৎপাদন বহুমুখী হওয়া, বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া, ফান্ডামেন্টালের তুলনায় দাম কম থাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, বার্ষিক সাধারন সভা ও লাভ্যাংশ ঘােষনা বা রেকর্ড ডেটের পর তুলনামূলকভাবে দাম বেশী পড়ে যাওয়া, অনুকুল বিশ্ব বানিজ্যনীতি, সর্বোপরি অনুকুল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যকার নানাবিধ কারনে শেয়ারের দাম বাড়ে।

সারাংশ

শেয়ার ব্যবসা যারা করেন তাদের অবশ্যই একটি ব্যপার মাথায় রাখতে হবে যে আমি যে মূল্যেই শেয়ার কিনি না কেন তার দাম যেকোন সময় কম-বেশী হতে পারে, লাভ হলে যেমন সেটা আমার লস হলেও সেটা আমার বহন করতে হবে। তবে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো কোম্পানির সকল দিক বিবেচনা করে শেয়ার ক্রয় করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.